উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পাকিস্তানি হানাদারের চেয়েও ভয়ংকর: নাছিম

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম বলেছেন, উগ্রবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি পাকিস্তানের হানাদার বাহিনীর চেয়েও জঘন্য ও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। হেফাজতের তাণ্ডব এরই প্রমাণ। শুধু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাদের টার্গেট  নয়, পুরো দেশকে ধ্বংস করাই এদের টার্গেট। বুধবার নারায়ণগঞ্জ সোনারগাঁওয়ে হেফাজত কর্তৃক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি, দোকানপাট ভাঙচুর ও ক্ষতিগ্রস্তদের দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী যখন পালন করা হচ্ছে, এ সময় স্বাধীনতাবিরোধী ও ধর্মব্যবসায়ীদের একটি চক্র দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করার পায়তারা শুরু করেছে। এদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে বাংলাদেশকে একটি ব্যর্থ ও অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত করা। এরা দেশ ও জনগণ বিরোধী। দেশের উন্নয়ন ধ্বংস করতে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে।

বিএনপি-জামাত শিবির মিলে তাদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করাই হচ্ছে হেফাজতের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ধর্মব্যবসায়ীরা দেশের উন্নয়ন, অর্জন ও জনগণ চায় না। এরা দেশের সব কিছু ধ্বংস করতে চায়। এরাই স্বাধীনতাবিরোধী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী। তাদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করার জন্য ১৭ জন নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছে। এর দায়ভার উগ্রপন্থী হেফাজতকেই নিতে হবে।

বাহাউদ্দীন নাছিম বলেন, এ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও জ্বালাওপোড়া করেছে, রেললাইন উপড়ে ফেলেছে, থানায় আগুন দিয়ে ভাঙচুর করেছে। এ হেফাজত তাদের কাজে অবুঝ শিশুদেরকে ব্যবহার করা শুরু করেছে। তিনি বলেন, দেশের মধ্যে ধ্বংসলীলা চালিয়ে হেফাজতিরা আবার নারীকে নিয়ে রিসোর্টে আরাম করতে যায়। ধরা খেয়ে ধর্মব্যবসায়ীদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায় এখন উন্মাদ হয়ে গেছে।

তিনি বলেন, প্রিয় মাতৃভূমিকে রক্ষা করার জন্য দেশের সব মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উগ্রবাদী জামাত-শিবির-বিএনপির সাম্প্রদায়িক শক্তিকে প্রতিহত করতে হবে। এদের দ্রুত ও উপযুক্ত বিচার করার জন্য বিশেষ ট্রাইবুন্যাল গঠন করারও আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাস প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন
Loading...