আমি অভিনয় জীবনে এমন কখনো দেখিনি

সিনিয়রদের সম্মান না করার কারণেই চলচ্চিত্রে আজ বিভাজন সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান কমিটির বেশ কিছু অনিয়মই এজন্য দায়ী, এমনটাই সময় সংবাদের কাছে বলেছেন জনপ্রিয় চিত্রনায়ক অমিত হাসান। এছাড়া, ৩০ বছরের অভিনয় জীবনে আমি দেখিনি শিল্পী হয়ে আরেক শিল্পীর সম্মানহানি করতে। যা অত্যন্ত নোংরা কার্যকলাপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সময় সংবাদকে দেয় একান্ত সাক্ষাতকারে এসব কথা বলেন তিনি।
অমিত হাসান বলেন, শিল্পী সমিতি কিন্তু আজকের নয়। মূলধারার চলচ্চিত্রের নায়ক রাজ রাজ্জাক সাহেবের আমল থেকে হয়েছে। তখন থেকে আমার সময় (সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন) পর্যন্ত এই যে শিল্পীদের মধ্যে বিভাজন কোনো কমিটির ক্ষেত্রে হয়নি। এটা আমাদের জন্য লজ্জার।

তিনি আরো বলেন, শিল্পী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাকদের পদত্যাগ চেয়ে রাস্তায় মানববন্ধন করে এটা শিল্পী সমিতির ইতিহাসে সর্বনিকৃষ্ট একটি অধ্যায়। এই প্রথম কোনো সভাপতি ও সেক্রেটারির পদত্যাগের দাবিতে এফডিসির গেটে মানববন্ধন করেছে শিল্পীরা। অবশ্য শিল্পী সমিতির এমন কার্যকলাপে তারা এই মানব বন্ধন করতে বাধ্য হয়েছে। তালিকা থেকে ১৮৪ জন শিল্পীকে বাদ দেওয়া যাদের হয়েছে তারা অনেক সিনেমায় কাজ করেছে। তাদের সঙ্গে এটা করা ঠিক হয়নি।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির বর্তমান সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আগে থেকে অনেকভাবে চেষ্টা করেছি। আমি শিল্পী সমিতির বিভিন্ন অনুষ্ঠান যাওয়ার চেষ্টা করেছি। আমার মনে হয় অনেক শিল্পী (সিনিয়র) আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমার মতো তারাও সম্মানের দিক বিবেচনা করে কেউ আসেনি। তবে এখন ১৮ সংগঠন বিষয়টি দেখছেন। সেখানে আমাদের কথা বলা ঠিক হবে না। আশা করি খুব শিগগিরই এর সমাধান হবে।

১৯৮৬ সালে ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সম্পৃক্ত হন। ছটকু আহমেদ পরিচালিত ‘চেতনা’ সিনেমা মুক্তি পায়। একক নায়ক হিসেবে তিনি প্রথম অভিনয় করেন মনোয়ার খোকনের জ্যোতি চলচ্চিত্রে। এই দশকে তিনি শেষ ঠিকানা, জিদ্দী, আবিদ হাসান বাদলের বিদ্রোহী প্রেমিকসহ বেশকিছু জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দেন। নায়ক হিসেবে যতটা সফল হয়েছেন তেমনি খলনায়ক হিসেবেও সমান জনপ্রিয়তা পেয়েছেন এ অভিনেতা।

প্রসঙ্গত, অমিত হাসান ২০১৫ সাল থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

আরও পড়ুন
Loading...